কারা হলেন জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য, কার্যপরিধি কী
এক দশক পর সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছে সরকার। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনকে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আজ রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কমিশনের সদস্যদের নাম এবং তাদের কার্যপরিধি প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পর্যালোচনা করে কমিশন প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:
* সময়োপযোগী ও টেকসই বেতনকাঠামো প্রণয়ন
* বিশেষায়িত পেশার জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর প্রস্তাব
* আয়কর পরিশোধ বিবেচনায় বেতন নির্ধারণ
* মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতনের সমন্বয় পদ্ধতি নির্ধারণ
* সময়োপযোগী পেনশন ও অবসর-সুবিধা প্রণয়ন
* কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কাজের মান মূল্যায়ন ও বেতন কাঠামো প্রস্তাব
এ ছাড়া, টেলিফোন, গাড়ি ও মোবাইল ফোন–সংক্রান্ত আর্থিক সুবিধা, রেশন ও নগদ সুবিধার যৌক্তিকীকরণ, বেতনের গ্রেড ও ইনক্রিমেন্টে বিদ্যমান অসঙ্গতি দূরীকরণে সুপারিশ প্রণয়ন করাও কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপারিশ প্রণয়নের সময় জাতীয় বেতন কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেবে। এর মধ্যে রয়েছে:
একটি গড় পরিবারের (পিতা-মাতাসহ সর্বোচ্চ ছয়জন) জীবনযাত্রার ব্যয়
* সর্বোচ্চ দুইজন শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়* দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা
* সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের আয়–ব্যয়ের পরিস্থিতি
* জনপ্রশাসনে মেধাবী ও দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা
* কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন
কমিশনের গঠন
প্রজ্ঞাপনে নবগঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
* মোহাম্মদ আলী খান – সাবেক সচিব
* মোসলেম উদ্দীন – সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক* ফজলুল করিম – সাবেক রাষ্ট্রদূত
খণ্ডকালীন সদস্যরা হলেন:
* আহমেদ আতাউল হাকিম – সাবেক মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
* মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন – সাবেক সরকারি কর্মকর্তা* জিশান আরা আরাফুন্নেসা – সাবেক সচিব
* মেজর জেনারেল (অব.) এ আই এম মোস্তফা রেজা নূর
* হাবিবুর রহমান – বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর
* তহমিনা বেগম – সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা
* মাকছুদুর রহমান সরকার – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান
* সামছুল আলম ভূঁইয়া – বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের শিক্ষক
* সৈয়দ আতিকুল হক – বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঔষধ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান
* এ কে এনামুল হক – বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর
এই সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী ও টেকসই বেতন কাঠামো তৈরিতে কাজ করবেন, যা জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং সরকারি চাকরিতে মেধাবী ও দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশনে আরও কয়েকজন খণ্ডকালীন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এরা হলেন:
* প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়,
* আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়,* জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, এবং
* স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–এর একজন করে প্রতিনিধি।
এ ছাড়া কমিশনে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)–এর সভাপতিকেও খণ্ডকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হবে।
অর্থ বিভাগ থেকে দুইজন অতিরিক্ত সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একজন সচিব অথবা অতিরিক্ত সচিবকে পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিশন প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কাউকে কো–অপ্ট বা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
এই বিস্তৃত ও প্রতিনিধিত্বমূলক সদস্যপদ কাঠামোর মাধ্যমে কমিশন একটি সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো তৈরির কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।


0 Reviews:
Post a Comment