চারু ও রাকিব (নবম শ্রেণী ,কুড়িগ্রাম)
পর্ব ১: নতুন প্রজেক্ট এবং প্রথম দৃষ্টিপাত
চারু আর রাকিব একই ক্লাসের সেরা বন্ধু। তারা একে অপরের হোমওয়ার্কে সাহায্য করত, নোট শেয়ার করত, খেলার মাঠে একসাথে দৌড়াদৌড়ি করত। কিন্তু আজ কিছুটা ভিন্ন, কারণ মাস্টারমশাই ঘোষণা করলেন নতুন গ্রুপ প্রজেক্ট।
“এই প্রজেক্টের জন্য তোমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করবে,” মাস্টারমশাই বললেন। চারু প্রথমে কিছুটা চিন্তিত, কারণ রাকিবের সঙ্গে কাজ করলে মাঝে মাঝে সে হঠাৎ হেসে যায়, যা চারুর মনকে অদ্ভুতভাবে গুলিয়ে দেয়। কিন্তু রাকিব হেসে বলল, “ভয় নেই, আমরা মজারভাবে সব শেষ করব।”
প্রথম মিটিং শুরু হল লাইব্রেরিতে। চারু তার বই নিয়ে বসল, আর রাকিব ল্যাপটপ খুলল। কাজ শুরু করার প্রথম মিনিটেই রাকিব হঠাৎ চারুর নোটের পাতা চুরি করে জোকস করল, “এই নোট আমার হয়ে গেল, তাই না?”
চারু লাজুক হলেও হেসে নোট ফিরিয়ে দিল। এই ছোট্ট মুহূর্তে তাদের মধ্যে হালকা উষ্ণতা জন্ম নিল, যা আগে কখনো অনুভব হয়নি। চারু হঠাৎ লক্ষ্য করল, রাকিবের হাসিটা আজ কিছুটা… আলাদা সুন্দর লাগছে। আর রাকিবও ভেবে বসল, চারুর চোখ আজ যেন একটু আলোকিত।
প্রজেক্টের কাজের মাঝে তারা একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করতে লাগল।
“দেখো, তুমি যদি সত্যিই সাহায্য করতে চাও, প্রথমে এই স্লাইড বানাও।” চারু বলল।
“ঠিক আছে, কিন্তু যদি আমি ভালো বানাতে পারি, তুমি আমাকে চকলেট দেবে,” রাকিব হাসল।
চারু লাজুকভাবে মাথা নাড়ল। এই ছোট্ট টিপস এবং হাসি তাদের বন্ধুত্বকে আরও ঘনিষ্ঠ করে দিল।
দিন শেষে তারা ক্লাসে কাজ শেষ করল। রাকিব হঠাৎ বলল, “আজ তোমার সঙ্গে কাজ করতে মজা হয়েছে। আশা করি আমরা আরও এমন সময় কাটাব।”
চারু শুধু লাজুকভাবে হাসল। স্কুলের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তারা বিদায় নিল। চারুর মনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা—এটাই কি তার প্রথম ভালো লাগা?
রাকিবও নিজেকে থামাতে পারল না—আজ তার হৃদয় অজান্তেই নরমভাবে ধুকছে।
প্রজেক্টের প্রথম দিন শেষ হল, বন্ধুত্ব আরও শক্ত হল, আর তাদের হৃদয়ে জন্ম নিল প্রথম প্রেমের ছোট্ট ছোঁয়া, যা এখনও পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি।
স্কুল জীবনের একটি দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের গল্প সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইলো।
বি:দ্য: যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে একটি লাইক দিয়ে পাশে থাকবেন। পরের পর্বগুলো পেতে থাকুন আমাদের সাথে।
পর্ব ২: গার্ডেনে চকলেট ও হাসি
0 Reviews:
Post a Comment