চারু ও রাকিব (নবম শ্রেণী ,কুড়িগ্রাম)
পর্ব ৩: হাতের লেখা চিঠি এবং প্রথম স্বীকৃতি
স্কুলের সকালটা ছিল হালকা ধূসর আভায় ঢাকা। ক্লাস ৯-এর শিক্ষার্থীরা একে অপরের মধ্যে ফিসফিস করে হাসছিল, আর চারু তার ব্যাগের মধ্যে লঞ্চ বক্স চেক করছিল। হঠাৎ রাকিব তার লকারের কাছে এসে দাঁড়ালো। সে ব্যাগ খুলল আর সেখানে একটি ছোট হাতের লেখা চিঠি পেল।
চিঠিটি লিখেছে:
"তুমি সবসময় হাসো, তাই আমার দিনও ভালো হয়ে যায়।"
রাকিব চোখ বড় করে চিঠি পড়ল। তার হৃদয় হঠাৎ অদ্ভুতভাবে হালকা উত্তেজনায় ভরে গেল। সে হেসে বলল নিজেরে, “এটা কি তার প্রিয় হাসির কারণ?” তার হাত একদম কাঁপছে।
চিঠির কথা নিয়ে রাকিব ক্লাসে গিয়ে চুপচাপ বসল। চারু পাশের বেঞ্চে হাসি ধরে রাখতে না পেরে বলল, “রাকিব, তুমি কি আজ আবার বইয়ের নোট ভুলে গিয়েছ?”
রাকিব লাজুক হয়ে চিঠি লুকিয়ে দিল। তবে চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা ছিল, যা চারু বুঝতে পারল। চারু মনে মনে বলল, “আজ যেন তার চোখ অন্য রকম উজ্জ্বল।”
পরবর্তী সময়ে তারা প্রজেক্টের কাজ করছিল। হঠাৎ চারু বলল, “দেখ, এই তথ্যটা আমি খুঁজেছি। তুমি কি আরও ভালোভাবে সাজাতে পারো?”
রাকিব চুপচাপ হাসল, “ঠিক আছে, তবে এই বার আমি পারলে, তুমি আমাকে চকলেট দিয়ে পুরস্কৃত করবে।”
এই হাসি আর কথোপকথনে তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে মিষ্টি রোমান্সে রূপ নিল।
ক্লাসের পরে, রাকিব নিজেই একটি ছোট চিঠি লিখল। এতে সে লিখল, “আজকের হাসিটা সুন্দর লাগল। আশা করি আমরা আরও এমন দিন কাটাব।”
চিঠি হাতে নিয়ে চারু লাজুকভাবে হাসল। সে বুঝল, এই ছোট্ট নোটগুলো হৃদয়ে নরম স্পর্শ এনে দিচ্ছে।
স্কুলের বাকি দুপুর তারা হেসে-খেলে গার্ডেনে বেড়াল। বন্ধুদের ছোট ছোট কৌতুক, যেমন রাকিবের পেছন থেকে হঠাৎ নোট ছিনিয়ে নেওয়া, আর চারুর মৃদু প্রতিবাদ, তাদের বন্ধুত্বকে আরও মধুর করে তুলল।
দুপুরের শেষে তারা স্কুলের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় নিল। চারু মনে মনে ভাবল, “চিঠি… হাসি… সবকিছু আজ হৃদয়ে মধুর অনুভূতি এনে দিল।”
রাকিবও নিজেকে থামাতে পারল না, তার হৃদয় আজ নরমভাবে উত্তেজনায় ভরা।
এইভাবে পর্ব ৩ শেষ হল। তাদের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে প্রথম প্রেমের অনুভূতি আরও দৃঢ় হল, যদিও পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। এটি একটি মিষ্টি বিরতি, যা আগামী দিনের জন্য অপেক্ষা করছে।
বি:দ্য: যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে একটি লাইক দিয়ে পাশে থাকবেন। পরের পর্বগুলো পেতে থাকুন আমাদের সাথে।
0 Reviews:
Post a Comment