চারু ও রাকিব (নবম শ্রেণী ,কুড়িগ্রাম)
পর্ব ৪: বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং হাসি-মিশ্রিত প্রেম
স্কুলে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। পুরো হল মঞ্চে রঙিন বাতি ঝলমল করছে, আর ক্লাসমেটরা একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছে। চারু আর রাকিব আজ স্কিট প্র্যাকটিস করছিল। তাদের গ্রুপকে একটি ছোট নাটক উপস্থাপন করতে হবে, আর রাকিবের চরিত্রটি একটু কঠিন।
প্র্যাকটিসের সময় হঠাৎ রাকিব একটি মঞ্চ পদক্ষেপ মিস করল। সবাই হেসে উঠল। চারু লজ্জা পেলেও ঠোঁটের কোণে হাসি ধরে রাখতে পারল না। রাকিব লজ্জায় লাল হয়ে গেল, তবে চারুর চোখে সেই হালকা হাসি তাকে এক অদ্ভুত আনন্দ দিল।
“দেখো, তুমি সবসময় পাশে থাকো, তাই তো?” রাকিব ধীরে ধীরে চারুর কাছে বলল। চারু চোখ মুচে হেসল। এই মুহূর্তে রাকিব বুঝল, তার হৃদয় আজ উত্তেজনা আর আনন্দের মিশ্রণে ভরা।
স্কিট প্র্যাকটিসের পরে তারা গার্ডেনে বসে রিল্যাক্স করছিল। চারু হেসে বলল, “তুমি আজ কত লজ্জা পেয়েছো, আর আমি শুধু হেসেছি।”
রাকিবও লাজুক হলেও চোখে আনন্দের ঝলক। তারা হেসে-খেলে আরও কাছে এল।
বন্ধুদের ছোট ছোট মন্তব্য যেমন, “রাকিব, চারুর দিকে আবার তাকিয়ে দেখছ না তো?” বা “তুমি কি চকলেট দেবার কথা মনে করছ?”—সবই তাদের হৃদয়ে মৃদু উত্তেজনা তৈরি করছিল।
দিনশেষে অনুষ্ঠান শেষ হলে, তারা স্কুলের গেটের পাশে চুপচাপ বসল। চারু হঠাৎ বলল, “আজকের দিনটা মজার এবং কিছুটা অন্যরকমও। আমরা একসাথে অনেক হাসলাম।”
রাকিব মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ… আর হঠাৎ মনে হলো, আমরা কেবল বন্ধু নই—আমাদের মধ্যে কিছুটা অন্য অনুভূতি আছে।”
তবে তারা জানত, এটি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা যায়নি। এটি কেবল একটি মিষ্টি বিরতি, যেখানে ছোট্ট রোমান্টিক ছোঁয়া তাদের বন্ধুত্বকে আরও ঘনিষ্ঠ করল।
যেমন দিনশেষে তারা বিদায় নিল, চারু মনে মনে ভাবল, “আজকের হাসি, স্কিটের ভুল, আর চোখের দেখা… সবকিছু হৃদয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ নিয়ে এল।”
রাকিবও ভাবল, “এটাই হয়তো প্রথম প্রেমের সূচনা। বন্ধুত্বের পাশাপাশি কিছুটা ভালো লাগা, যা ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে।”
এইভাবে পর্ব ৪ শেষ হল। তাদের বন্ধুত্ব এবং প্রথম প্রেমের অনুভূতি আরও শক্ত হল, কিন্তু পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। এটি একটি মধুর বিরতি, যা শেষ পর্বে পূর্ণাঙ্গ রোমান্সে রূপ নেবে।
বি:দ্য: যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে একটি লাইক দিয়ে পাশে থাকবেন। পরের পর্বগুলো পেতে থাকুন আমাদের সাথে।
0 Reviews:
Post a Comment