চারু ও রাকিব (নবম শ্রেণী ,কুড়িগ্রাম)
পর্ব ৫: শেষ দিন এবং স্বীকারোক্তি
স্কুলের শেষ দিন। পুরো ক্লাসের মধ্যে মিষ্টি হইহই, আনন্দ আর কিছুটা দুঃখের মিশ্রণ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। চারু আর রাকিব, যারা সারাবছর একসাথে প্রজেক্ট, স্কিট, হোমওয়ার্ক এবং হেসে-খেলেছে, আজ জানত—আজ কিছুটা বিশেষ দিন।
স্কুলের প্রাঙ্গণে তারা বসে প্র্যাকটিস করছিল বার্ষিক বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য। চারু একটু লাজুক আর রাকিব হঠাৎ কিছুটা অস্থির। দুইজনেই জানত, আজ হয়তো প্রথম ভালোবাসা স্বীকার করার দিন।
প্রথমে তারা শুধু বন্ধুত্বের মতো হাসছিল। হঠাৎ রাকিব বলল, “চারু… আমি আজ তোমাকে কিছু বলতে চাই।” চারু তাকিয়ে রইল, হালকা লজ্জা আর কৌতুকময় হাসি মিশ্রিত।
“তুমি জানো, আমরা সব সময় বন্ধু ছিলাম… কিন্তু… আমি বুঝতে পেরেছি, আমি শুধু বন্ধু হিসেবে তোমাকে চাই না। আমি তোমাকে… আরও ভালোবাসি,” রাকিব বলল, লজ্জা চাপা হাসি নিয়ে।
চারু চোখ বড় করে রাকিবের দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর হেসে বলল, “আমি… কিছুটা। আর আমি জানতাম না কিভাবে বলব।”
দুজনই এক মুহূর্ত চুপচাপ থাকল। চারুর হাত ধীরে ধীরে রাকিবের হাতে লাগল। হালকা স্পর্শ, ছোট্ট হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত, যা বছরের বন্ধুত্বকে রূপান্তরিত করল প্রথম রোমান্সে।
স্কুলের বন্ধুরা পাশ থেকে কৌতুক করল—“দেখো, রাকিব, তুমি অবশেষে স্বীকার করেছ!” চারু লাজুকভাবে হেসে মাথা নাড়ল। রাকিবও লাজুক হলেও চোখে আনন্দের ঝলক।
এরপর তারা একসাথে বার্ষিক অনুষ্ঠান দেখল। হাসি, গান, নাচ—সবকিছু মিলিয়ে তাদের বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায় রূপান্তরিত হলো। তারা বুঝল, তাদের সম্পর্ক শুধু বন্ধুত্ব নয়, এটি মিষ্টি, কোমল, এবং বিশেষ প্রেমের গল্প।
দিনশেষে, তারা স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় নিল। চারু মনে মনে বলল, “আজকের স্বীকারোক্তি… এটা কেবল শুরু, আর হৃদয় সত্যিই আনন্দে ভরে গেছে।”
রাকিবও বলল, “এটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে মধুর মুহূর্ত। বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা একসাথে।”
এইভাবে ৫ পর্বের ধারাবাহিক গল্প শেষ হল। চারু এবং রাকিবের বন্ধুত্ব বন্ধন, হাসি, মিষ্টি রোমান্স এবং প্রথম ভালোবাসার স্পর্শ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠল।
বি:দ্য: যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে একটি লাইক দিয়ে পাশে থাকবেন। পরের পর্বগুলো পেতে থাকুন আমাদের সাথে।
পর্ব ৪: বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং হাসি-মিশ্রিত প্রেম
0 Reviews:
Post a Comment